সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media) কী? কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং কীভাবে এটি আমাদের জীবন বদলে দিচ্ছে
এক সময় মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল চিঠি, টেলিফোন কিংবা মুখোমুখি কথা বলা। কিন্তু প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবী এখন এমন এক পর্যায়ে এসেছে যেখানে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একজন মানুষ পৃথিবীর অন্য প্রান্তের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। এই পরিবর্তনের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হলো সোশ্যাল মিডিয়া।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়া শিক্ষা, ব্যবসা, সংবাদ, ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং, মার্কেটিং এবং সামাজিক পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গত এক দশকে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে ছোট ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী এবং প্রতিষ্ঠান সবাই নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করছে।
সোশ্যাল মিডিয়া কী?
সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media) হলো এমন একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যেখানে মানুষ ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিজেদের তৈরি করা কনটেন্ট (যেমন লেখা, ছবি, ভিডিও, অডিও) শেয়ার করতে পারে এবং অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ ও মতামত বিনিময় করতে পারে।
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, সোশ্যাল মিডিয়া হলো ডিজিটাল জগতের এমন একটি স্থান যেখানে মানুষ শুধু তথ্য গ্রহণ করে না, বরং নিজেরাও তথ্য তৈরি ও ছড়িয়ে দিতে পারে।
প্রচলিত গণমাধ্যম যেমন সংবাদপত্র বা টেলিভিশনে সাধারণত একমুখী যোগাযোগ হয়। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় যোগাযোগ হয় দ্বিমুখী। এখানে একজন সাধারণ ব্যবহারকারীও একজন কনটেন্ট নির্মাতা হতে পারেন।
সোশ্যাল মিডিয়ার ইতিহাস
সোশ্যাল মিডিয়ার ধারণা আজকের নয়। ইন্টারনেট জনপ্রিয় হওয়ার পর থেকেই মানুষ অনলাইনে যোগাযোগের নতুন উপায় খুঁজতে শুরু করে।
১৯৯০-এর দশকে বিভিন্ন অনলাইন কমিউনিটি ও ফোরামের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগের শুরু হয়। পরবর্তীতে:
- ব্লগিং জনপ্রিয় হয়
- অনলাইন ফোরাম তৈরি হয়
- সামাজিক নেটওয়ার্কিং সাইটের আবির্ভাব ঘটে
- স্মার্টফোনের বিস্তারের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া শুধু বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি একটি বিশাল ডিজিটাল ইকোসিস্টেম যেখানে কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিন যুক্ত থাকে।
জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১. ফেসবুক (Facebook)
ফেসবুক বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। এটি ব্যক্তিগত যোগাযোগের পাশাপাশি ব্যবসা, কমিউনিটি তৈরি এবং ব্র্যান্ড প্রচারের জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
ফেসবুকে ব্যবহারকারীরা:
- ছবি ও ভিডিও শেয়ার করতে পারেন
- বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন
- বিভিন্ন গ্রুপ ও কমিউনিটিতে অংশ নিতে পারেন
- ব্যবসায়িক পেজ পরিচালনা করতে পারেন
বাংলাদেশে ছোট ব্যবসা, উদ্যোক্তা এবং ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য ফেসবুকের ব্যবহার অত্যন্ত জনপ্রিয়।
২. (YouTube)
ইউটিউব মূলত ভিডিওভিত্তিক একটি জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম। এটি তথ্য, শিক্ষা, বিনোদন এবং দক্ষতা প্রকাশের জন্য বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত হয়।
ইউটিউবে মানুষ:
- শিক্ষামূলক ভিডিও তৈরি করতে পারে
- বিনোদনমূলক কনটেন্ট প্রকাশ করতে পারে
- নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে পারে
- কনটেন্টের মাধ্যমে আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে
বর্তমানে অনেক বাংলাদেশি তরুণ ইউটিউবকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করছেন এবং সফল কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি লাভ করছেন।
৩. ইনস্টাগ্রাম (Instagram)
ইনস্টাগ্রাম ছবি, ছোট ভিডিও এবং ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট শেয়ারের জন্য জনপ্রিয় একটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এবং সৃজনশীল পেশার মানুষের মধ্যে এর ব্যবহার বেশি।
ইনস্টাগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে:
- ফ্যাশন
- লাইফস্টাইল
- ফটোগ্রাফি
- ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং
- পণ্য প্রচারণা
ক্ষেত্রে। অনেক ব্যবসা ও ক্রিয়েটর ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে নিজেদের পরিচিতি ও দর্শক তৈরি করছেন।
৪. টিকটক (TikTok)
টিকটক স্বল্প দৈর্ঘ্যের ভিডিও কনটেন্টের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এটি বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সৃজনশীলতা প্রকাশ এবং বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
টিকটকের মাধ্যমে মানুষ:
- সৃজনশীল ভিডিও তৈরি করতে পারে
- বিনোদনমূলক কনটেন্ট উপভোগ করতে পারে
- নতুন ট্রেন্ড তৈরি ও অনুসরণ করতে পারে
বর্তমানে টিকটক শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং অনেক ব্যক্তি ও ব্র্যান্ডের জন্য প্রচারণার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে।
সোশ্যাল মিডিয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ার গুরুত্ব অনেক বেশি। এটি মানুষের জীবনযাত্রা এবং ব্যবসার ধরনকে পরিবর্তন করে দিয়েছে।
১. দ্রুত যোগাযোগের সুযোগ
সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের মানুষের সঙ্গে মুহূর্তের মধ্যে যোগাযোগ করা যায়।
আগে যেখানে একটি খবর পৌঁছাতে অনেক সময় লাগত, এখন কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তা লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।
২. ব্যবসার জন্য শক্তিশালী মাধ্যম
বর্তমানে ছোট থেকে বড় সব ধরনের ব্যবসা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নিজেদের পরিচিত করছে।
একজন উদ্যোক্তা:
- পণ্যের প্রচার করতে পারেন
- গ্রাহকের মতামত জানতে পারেন
- নতুন ক্রেতা তৈরি করতে পারেন
- ব্র্যান্ডের পরিচিতি বাড়াতে পারেন
বাংলাদেশে অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা শুধুমাত্র ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে সফল ব্যবসা গড়ে তুলেছেন।
৩. ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড তৈরি
বর্তমানে একজন ব্যক্তিও নিজের দক্ষতা ও জ্ঞান ব্যবহার করে একটি শক্তিশালী ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড তৈরি করতে পারেন।
যেমন:
- একজন শিক্ষক অনলাইন ক্লাস নিতে পারেন
- একজন লেখক নিজের লেখা প্রকাশ করতে পারেন
- একজন ডিজাইনার নিজের কাজ প্রদর্শন করতে পারেন
৪. শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জনের সুযোগ
সোশ্যাল মিডিয়া এখন শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
মানুষ এখানে:
- নতুন দক্ষতা শিখতে পারে
- বিশেষজ্ঞদের অনুসরণ করতে পারে
- শিক্ষামূলক আলোচনা করতে পারে
বিশেষ করে অনলাইন শিক্ষা বিস্তারে সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
সোশ্যাল মিডিয়ার সুবিধা
বর্তমান ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়া শুধু বিনোদন বা যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং এটি মানুষের ব্যক্তিগত, পেশাগত ও সামাজিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
- সহজ যোগাযোগ: সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বন্ধু, পরিবার ও সহকর্মীদের সঙ্গে যেকোনো সময় সহজে যোগাযোগ রাখা যায়। ভৌগোলিক দূরত্ব দূর করে এটি মানুষকে দ্রুত একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকতে সাহায্য করে।
- তথ্য দ্রুত পাওয়া: বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের খবর, তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জানা যায়। শিক্ষা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য বা বিভিন্ন বিষয়ে নতুন তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- ব্যবসার প্রসার: সোশ্যাল মিডিয়া ছোট ও বড় ব্যবসার জন্য একটি শক্তিশালী প্রচারণার মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। কম খরচে পণ্য বা সেবার প্রচার করা, নতুন গ্রাহক খুঁজে পাওয়া এবং ব্র্যান্ডের পরিচিতি বাড়ানো সম্ভব।
- সৃজনশীলতার প্রকাশ: মানুষ নিজের প্রতিভা, দক্ষতা ও সৃজনশীল কাজ বিশ্বের সামনে তুলে ধরার সুযোগ পায়। লেখালেখি, ছবি, ভিডিও, ডিজাইন বা অন্যান্য কনটেন্টের মাধ্যমে ব্যক্তিগত পরিচিতি তৈরি করা যায়।
- সামাজিক সচেতনতা: সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা, মানবিক উদ্যোগ ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সোশ্যাল মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন ইতিবাচক পরিবর্তনের অংশ হতে পারে।
সোশ্যাল মিডিয়ার অসুবিধা
সোশ্যাল মিডিয়া আধুনিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও এর কিছু নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। সচেতনভাবে ব্যবহার না করলে এটি ব্যক্তিগত জীবন, মানসিক স্বাস্থ্য, পড়াশোনা, কর্মজীবন এবং অনলাইন নিরাপত্তার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
অতিরিক্ত ব্যবহার
সোশ্যাল মিডিয়ার সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি হলো এর অতিরিক্ত ব্যবহার। অনেক মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সময় ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে ব্যয় করেন, যা ধীরে ধীরে একটি অভ্যাসে পরিণত হতে পারে।
অতিরিক্ত সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটালে:
- পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যেতে পারে: শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যস্ত থাকলে পড়াশোনার সময় কমে যায় এবং মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
- কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে: কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার কাজের প্রতি মনোযোগ কমিয়ে দিতে পারে। এর ফলে সময় ব্যবস্থাপনা দুর্বল হয় এবং উৎপাদনশীলতা হ্রাস পেতে পারে।
- বাস্তব জীবনের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে: অনলাইনে অতিরিক্ত ব্যস্ত থাকার কারণে পরিবার, বন্ধু ও কাছের মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ কমে যেতে পারে। ভার্চুয়াল সম্পর্ক অনেক সময় বাস্তব সম্পর্কের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে না।
ভুল তথ্যের বিস্তার
সোশ্যাল মিডিয়ার আরেকটি বড় সমস্যা হলো ভুল তথ্য বা গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়া। যেকোনো ব্যক্তি সহজেই তথ্য প্রকাশ করতে পারেন, কিন্তু সেই তথ্য সবসময় সঠিক বা নির্ভরযোগ্য নাও হতে পারে।
ভুয়া খবর, বিভ্রান্তিকর তথ্য বা অসম্পূর্ণ তথ্য মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে এবং কখনো কখনো সামাজিক সমস্যার কারণ হতে পারে।
তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো তথ্য দেখার পর:
- তথ্যের উৎস যাচাই করা উচিত
- নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম বা প্রতিষ্ঠিত উৎস থেকে নিশ্চিত হওয়া উচিত
- যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকা উচিত
সচেতন ব্যবহারকারীরাই ভুল তথ্যের বিস্তার কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
গোপনীয়তার ঝুঁকি
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সময় ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক ব্যবহারকারী অসতর্কভাবে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য, অবস্থান, ছবি বা দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন বিষয় অনলাইনে প্রকাশ করেন, যা ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
অসতর্কতার কারণে:
- ব্যক্তিগত তথ্য অপব্যবহার হতে পারে
- অনলাইন প্রতারণার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে
- পরিচয় চুরির (Identity Theft) ঝুঁকি তৈরি হতে পারে
- ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
তাই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সময় শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা, প্রাইভেসি সেটিংস নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করা গুরুত্বপূর্ণ।
মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব
অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার অনেক সময় মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদের সাজানো ও সফল জীবনের ছবি দেখে অনেকের মধ্যে নিজের জীবন নিয়ে হতাশা বা অপ্রয়োজনীয় তুলনা তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে তরুণদের ক্ষেত্রে:
- আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে
- উদ্বেগ বৃদ্ধি পেতে পারে
- অনলাইন স্বীকৃতির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি হতে পারে
তাই সোশ্যাল মিডিয়াকে বাস্তব জীবনের বিকল্প হিসেবে না দেখে একটি সহায়ক মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা উচিত।
সাইবার বুলিং ও অনলাইন হয়রানি
সোশ্যাল মিডিয়ায় সবাই ইতিবাচক অভিজ্ঞতা পায় না। অনেক সময় ব্যবহারকারীরা অনলাইন অপমান, নেতিবাচক মন্তব্য বা হয়রানির শিকার হতে পারেন, যাকে সাইবার বুলিং বলা হয়।
এ ধরনের আচরণ একজন ব্যক্তির মানসিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই অনলাইনে অন্যদের প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা এবং কোনো হয়রানির শিকার হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সোশ্যাল মিডিয়ার ভবিষ্যৎ
বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এবং স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ভবিষ্যতে:
- ডিজিটাল মার্কেটিং আরও জনপ্রিয় হবে
- অনলাইন ব্যবসা বাড়বে
- কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে
- শিক্ষা ও পেশাগত উন্নয়নে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার বাড়বে
বিশেষ করে তরুণদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নতুন সুযোগ তৈরি করছে।
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
সোশ্যাল মিডিয়ার সঠিক ব্যবহার আমাদের ব্যক্তিগত, পেশাগত ও সামাজিক জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নিরাপদ ও কার্যকর অভিজ্ঞতার জন্য কিছু বিষয় সবসময় মনে রাখা জরুরি।
- যাচাই করা তথ্য শেয়ার করুন: কোনো খবর বা তথ্য শেয়ার করার আগে এর উৎস ও সত্যতা যাচাই করুন, যাতে ভুল তথ্য ছড়িয়ে না পড়ে।
- ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখুন: পাসওয়ার্ড, ব্যক্তিগত নথি, ঠিকানা বা সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।
- সময়ের সঠিক ব্যবহার করুন: সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত সময় ব্যয় না করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এর ব্যবহার সীমাবদ্ধ রাখুন।
- ইতিবাচক ও মূল্যবান কনটেন্ট তৈরি করুন: এমন পোস্ট, ছবি বা ভিডিও শেয়ার করুন যা অন্যদের জন্য উপকারী, শিক্ষামূলক বা অনুপ্রেরণামূলক।
- অনলাইন আচরণে সচেতন থাকুন: অন্যের মতামতকে সম্মান করুন এবং অনলাইনে ভদ্র ও দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখুন।
- প্রাইভেসি সেটিংস নিয়মিত পরীক্ষা করুন: সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বাড়াতে গোপনীয়তার সেটিংস সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করুন।
- অপরিচিত লিংক ও অ্যাকাউন্ট থেকে সতর্ক থাকুন: সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করা বা অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করা এড়িয়ে চলুন।
- ডিজিটাল সুনাম বজায় রাখুন: অনলাইনে প্রকাশ করা প্রতিটি বিষয় ভবিষ্যতে আপনার ব্যক্তিগত ও পেশাগত পরিচয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
নিষ্কর্ষ
সোশ্যাল মিডিয়া আধুনিক বিশ্বের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে দিয়েছে। এটি শুধু বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং শিক্ষা, ব্যবসা, ক্যারিয়ার এবং ব্যক্তিগত উন্নয়নের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম।
সঠিকভাবে ব্যবহার করলে সোশ্যাল মিডিয়া একজন সাধারণ মানুষকেও নতুন সুযোগ, পরিচিতি এবং সফলতার পথে এগিয়ে নিতে পারে।
তবে এর সুবিধা পাওয়ার জন্য প্রয়োজন সচেতন ব্যবহার, সঠিক তথ্য নির্বাচন এবং প্রযুক্তির প্রতি দায়িত্বশীল মনোভাব। ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
