ব্যবসা ও বিনিয়োগBengali

১০ হাজার টাকায় ব্যবসা: বাংলাদেশে ২৫টি লাভজনক ছোট ব্যবসার আইডিয়া

বাংলাদেশে অনেকেই মনে করেন ব্যবসা শুরু করতে প্রচুর পুঁজি দরকার। বাস্তবে মাত্র ১০ হাজার টাকা দিয়েই শুরু করা যায় অনেক ব্যবসা যা ধীরে ধীরে বড় আকার নিতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা, পরিশ্রম এবং দক্ষতার মাধ্যমে অল্প পুঁজিতেই সফল উদ্যোক্তা হওয়া সম্ভব। এখানে দেওয়া হলো ২৫টি ব্যবসার আইডিয়া যা দিয়ে আপনি শুরু করতে পারেন আপনার স্বপ্নের যাত্রা।

What We Have Covered!

১. অনলাইন রিসেলিং ব্যবসা

দারাজ, ফেসবুক মার্কেটপ্লেস কিংবা নিজের অনলাইন শপ খুলে পণ্য রিসেলিং শুরু করা যায়। পাইকারি বাজার থেকে কম দামে জামাকাপড়, কসমেটিক্স, গ্যাজেট বা হোম ডেকোর জিনিস কিনে অনলাইনে বিক্রি করলে দ্রুত বিক্রি হয়। মাত্র ১০ হাজার টাকায় প্রাথমিক স্টক এবং কিছু প্রচারণা খরচ মেটানো সম্ভব। বর্তমানে এটি ছাত্রছাত্রী ও গৃহিণীদের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় ব্যবসা।

২. প্রিন্ট অন ডিমান্ড টি-শার্ট

যারা ডিজাইন করতে পারেন তাদের জন্য এটি একটি দারুণ উদ্যোগ। টি-শার্ট প্রিন্টিংয়ের জন্য আলাদা মেশিন না কিনে প্রিন্ট শপের মাধ্যমে অর্ডার অনুযায়ী প্রিন্ট করানো যায়। অর্ডার-ভিত্তিক হওয়ায় স্টক খরচ নেই, এবং তরুণদের মধ্যে কাস্টম ডিজাইন টি-শার্টের চাহিদা সবসময় থাকে।

৩. ঘরোয়া ফুড ডেলিভারি

যারা রান্না করতে ভালোবাসেন তারা ঘরোয়া ফুড ডেলিভারি ব্যবসা শুরু করতে পারেন। ব্যস্ত শহুরে জীবনে অফিসকর্মী ও শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়ির রান্না করা খাবারের চাহিদা অনেক। মাত্র ১০ হাজার টাকায় রান্নার উপকরণ ও প্যাকেজিং খরচ মেটানো সম্ভব। প্রথমে ছোট পরিসরে শুরু করে ধীরে ধীরে গ্রাহক বাড়ানো যায়। এটি একটি স্থায়ী আয়ের উৎস হতে পারে।

৪. ফ্রিল্যান্সিং সার্ভিস

ডিজাইন, কনটেন্ট রাইটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং কিংবা ভিডিও এডিটিংয়ে দক্ষ হলে ফ্রিল্যান্সিং ব্যবসা শুরু করা যায়। প্রাথমিক খরচ মূলত ইন্টারনেট সংযোগ ও কিছু প্রয়োজনীয় সফটওয়্যারে হবে। মাত্র ১০ হাজার টাকাতেই সব সেটআপ সম্ভব। Fiverr, Upwork, Freelancer এর মতো প্ল্যাটফর্ম থেকে ডলার আয় করা যায়। যারা ঘরে বসে স্বাধীনভাবে কাজ করতে চান তাদের জন্য এটি অন্যতম সেরা উপায়।

৫. ঘরোয়া কেক ও বেকারি আইটেম

বাড়িতে তৈরি কেক, কুকিজ বা ব্রেডের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। জন্মদিন, ছোট অনুষ্ঠান কিংবা দৈনন্দিন চাহিদার জন্য অনেকেই হোমমেড পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন। মাত্র ১০ হাজার টাকায় বেকিং সরঞ্জাম ও কাঁচামাল কিনে ব্যবসা শুরু করা সম্ভব। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ বা লোকাল ডেলিভারি অ্যাপের মাধ্যমে প্রচার করলে দ্রুত অর্ডার পাওয়া যায়।

৬. গিফট আইটেম শপ

উপহার সামগ্রীর বাজার বাংলাদেশে অনেক বড়। হাতে বানানো শো-পিস, ফটো ফ্রেম, কাস্টম গিফট বক্স বা ছোট ডেকোরেটিভ আইটেম বানিয়ে বিক্রি করা যায়। প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার টাকায় কাঁচামাল সংগ্রহ করে অনলাইন পেজের মাধ্যমে বিক্রি শুরু করা যায়। উৎসব ও বিশেষ দিনে বিক্রি বেড়ে যায়। এই ব্যবসা সৃজনশীলদের জন্য দারুণ সুযোগ এনে দেয়।

৭. অনলাইন টিউশনি

অল্প খরচে অনলাইন টিউশনি ব্যবসা শুরু করা সম্ভব। শুধু একটি স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ এবং ভালো ইন্টারনেট কানেকশন থাকলেই হয়। বর্তমানে অনলাইন শিক্ষার জনপ্রিয়তা অনেক বেড়েছে, তাই গণিত, ইংরেজি, বিজ্ঞান বা অন্য যেকোনো বিষয়ে দক্ষ হলে আয় করা সহজ।

৮. মোবাইল ফোন অ্যাক্সেসরিজ বিক্রি

বাংলাদেশে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে, তাই অ্যাক্সেসরিজের বাজারও বড় হচ্ছে। কভার, চার্জার, হেডফোন, স্ক্রিন প্রটেক্টর ইত্যাদি সবসময় বিক্রি হয়। ১০ হাজার টাকায় ছোট পরিসরে স্টক নিয়ে ব্যবসা শুরু করা যায়। চাইলে ফেসবুক পেজ বা মার্কেটপ্লেসে বিক্রি করা যায়, আবার চাইলে লোকাল দোকান থেকেও সরাসরি বিক্রি সম্ভব।

৯. নার্সারি ব্যবসা

গাছের প্রতি আগ্রহ থাকলে নার্সারি ব্যবসা একটি লাভজনক উদ্যোগ হতে পারে। ছোট পটে মানসম্পন্ন গাছ লাগিয়ে অনলাইনে বা লোকাল মার্কেটে বিক্রি করা যায়। ১০ হাজার টাকায় টব, মাটি, চারাগাছ ও সার কিনে ব্যবসা শুরু করা সম্ভব। বর্তমানে শহরে বাসা বা অফিস সাজানোর জন্য ছোট গাছের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

১০. হ্যান্ডমেড জুয়েলারি

মুক্তা, পুঁতি বা বিড দিয়ে গলার হার, কানের দুল বা ব্রেসলেট তৈরি করে অনলাইনে বিক্রি করা যায়। এই ব্যবসার জন্য বড় পুঁজির প্রয়োজন নেই, মাত্র ১০ হাজার টাকাতেই শুরু করা সম্ভব। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে হ্যান্ডমেড জুয়েলারির জনপ্রিয়তা বেশি। ভালো ডিজাইন ও সুন্দর মার্কেটিং থাকলে আয় দ্রুত বাড়তে পারে।

১১. গ্রোসারি হোম ডেলিভারি

লোকাল বাজার থেকে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার সেবা এখন অনেক জনপ্রিয়। এই ব্যবসা শুরু করতে শুধু একটি বাইসাইকেল বা মোটরসাইকেল ও প্রাথমিক খরচ প্রয়োজন। ব্যস্ত শহুরে জীবনে মানুষ ঘরে বসেই বাজার করতে চায়, তাই এই সেবা দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

১২. বাইসাইকেল রিপেয়ার সার্ভিস

বাংলাদেশে সাইকেলের ব্যবহার বেড়েছে, বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষের মধ্যে। মাত্র ১০ হাজার টাকায় কিছু প্রাথমিক সরঞ্জাম কিনে ছোট পরিসরে সাইকেল মেরামতের ব্যবসা শুরু করা যায়। এলাকাভিত্তিক ছোট দোকান কিংবা মোবাইল সার্ভিস দিয়েও আয় সম্ভব। সঠিকভাবে পরিচালনা করলে এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী লাভজনক উদ্যোগ হতে পারে।

১৩. ফটো/ভিডিও এডিটিং সার্ভিস

যারা মিডিয়া বা ডিজিটাল কনটেন্ট নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসেন, তারা এডিটিং ব্যবসা শুরু করতে পারেন। ল্যাপটপ বা কম্পিউটার থাকলে মাত্র ১০ হাজার টাকায় প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার কিনে কাজ শুরু করা সম্ভব। ফটোগ্রাফার, ইউটিউবার বা ছোট ব্যবসার প্রচারণামূলক ভিডিওর চাহিদা অনেক। দক্ষতা থাকলে এই ব্যবসা থেকে নিয়মিত ভালো আয় করা যায়।

১৪. সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট

অনেক ছোট ব্যবসার মালিক ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম পেজ ঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারেন না। তাদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট সেবা দেওয়া একটি লাভজনক ব্যবসা। কনটেন্ট পোস্ট করা, বিজ্ঞাপন পরিচালনা ও গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা এ ব্যবসার মূল কাজ।

১৫. মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট

বিকাশ, নগদ বা রকেটের এজেন্ট হয়ে লেনদেন ফি থেকে ভালো আয় করা যায়। এজেন্ট হতে সাধারণত সামান্য ডিপোজিট ও কিছু প্রাথমিক খরচ লাগে যা ১০ হাজার টাকার মধ্যে মেটানো যায়। গ্রামীণ ও শহুরে দুই এলাকাতেই মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট ব্যবসার চাহিদা রয়েছে। গ্রাহক যত বাড়বে, আয়ও তত বাড়বে।

১৬. হোম টেইলারিং

সেলাই মেশিন থাকলে খুব সহজেই টেইলারিং ব্যবসা শুরু করা যায়। মাত্র ১০ হাজার টাকায় কাপড় কিনে এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করে অর্ডার নেওয়া সম্ভব। পোশাক সবসময় মানুষের চাহিদার তালিকায় থাকে, তাই এ ব্যবসায় ক্ষতির ঝুঁকি কম। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এটি একটি নিরাপদ এবং লাভজনক উদ্যোগ।

১৭. ঘরোয়া মসলা ও আচার ব্যবসা

বাংলাদেশে হোমমেড আচার ও মসলার চাহিদা অনেক। ১০ হাজার টাকায় কাঁচামাল কিনে এবং সুন্দর প্যাকেজিংয়ের মাধ্যমে এই ব্যবসা শুরু করা যায়। অনেকেই বাজারের তৈরি আচার খেতে চান না, তাই স্বাস্থ্যকর ঘরোয়া আচার জনপ্রিয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা করলে দ্রুত গ্রাহক তৈরি করা সম্ভব।

১৮. ডিজিটাল প্রিন্টিং সার্ভিস

ভিজিটিং কার্ড, ফ্লায়ার, স্টিকার বা ক্যালেন্ডারের চাহিদা সর্বদা রয়েছে। প্রিন্টিং মেশিন না কিনে অর্ডার নিয়ে প্রিন্ট শপে কাজ করিয়ে ডেলিভারি করা যায়। এই ব্যবসা কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং লাভজনক, কারণ চাহিদা সারা বছর জুড়েই থাকে।

১৯. ফুড কার্ট ব্যবসা

চা, ফুচকা, ঝালমুড়ি, বার্গার বা ছোট খাবারের কার্ট ব্যবসা শুরু করা যায়। ১০ হাজার টাকায় একটি ছোট কার্ট ও প্রাথমিক উপকরণ কিনে শুরু করা সম্ভব। লোকসমাগম বেশি হয় এমন জায়গায় বসালে দ্রুত বিক্রি হয়। খাবারের মান ও স্বাদ ভালো হলে নিয়মিত গ্রাহক তৈরি করা যায়। এটি কম খরচে দ্রুত আয়ের সুযোগ দেয়।

২০. ইউটিউব চ্যানেল

যদি ভিডিও বানানোর দক্ষতা থাকে, তবে ইউটিউব চ্যানেল খুলে ব্যবসা শুরু করা যায়। একটি ভালো ক্যামেরা ফোন ও সামান্য এডিটিং টুলস থাকলেই ১০ হাজার টাকার মধ্যে কাজ শুরু সম্ভব। রান্না, ভ্রমণ, শিক্ষা বা প্রযুক্তি নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করে বিজ্ঞাপন আয় করা যায়। ধৈর্য ও নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি থাকলে এটি বড় আয়ের উৎস হতে পারে।

২১. অনলাইন বুকস্টোর

পাঠ্যবই, উপন্যাস বা বিভিন্ন বিষয়ে বই অনলাইনে বিক্রি করা যায়। পাইকারি বাজার থেকে কম দামে বই কিনে ফেসবুক পেজ, ইনস্টাগ্রাম বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিক্রি করলে ভালো লাভ হয়। মাত্র ১০ হাজার টাকায় প্রাথমিক স্টক কিনে শুরু করা সম্ভব। তরুণ প্রজন্ম ও অভিভাবকরা বই কিনতে অনলাইন শপকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।

২২. রুম ডেকোরেশন সার্ভিস

ছোট ইভেন্ট বা বাসা সাজসজ্জার সেবা দিয়ে আয় করা যায়। ১০ হাজার টাকায় কিছু সাজসজ্জার উপকরণ কিনে পার্টি, জন্মদিন বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে কাজ শুরু করা সম্ভব। বর্তমানে মানুষ ইভেন্টের জন্য সাজসজ্জায় বাড়তি খরচ করতে আগ্রহী। সৃজনশীলতা থাকলে এই ব্যবসায় খুব দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারবেন।

২৩. ডেলিভারি সার্ভিস

লোকাল এরিয়ায় বাইসাইকেল বা মোটরসাইকেল দিয়ে ডেলিভারি ব্যবসা শুরু করা যায়। মাত্র ১০ হাজার টাকায় প্রাথমিক খরচ মেটানো সম্ভব। অনলাইনে ছোট ব্যবসাগুলো তাদের পণ্য সরবরাহের জন্য ডেলিভারি সার্ভিসের ওপর নির্ভরশীল। সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারলে এই ব্যবসা দীর্ঘমেয়াদে বড় আকার নিতে পারে।

২৪. কসমেটিক্স রিসেলিং

মহিলাদের জন্য প্রসাধন সামগ্রীর বাজার সবসময় বড়। পাইকারি বাজার থেকে কম দামে কসমেটিক্স কিনে অনলাইনে বা ছোট দোকানে বিক্রি করা যায়। সঠিকভাবে গ্রাহক তৈরি করতে পারলে খুব অল্প সময়েই আয় বাড়ানো যায়। এটি বর্তমানে তরুণীদের মধ্যে জনপ্রিয় ব্যবসা।

২৫. আইটি সাপোর্ট সার্ভিস

কম্পিউটার সফটওয়্যার ইন্সটল, নেটওয়ার্ক সেটআপ বা মেরামতের কাজের চাহিদা সবসময় থাকে। মাত্র ১০ হাজার টাকায় কিছু প্রাথমিক টুলস ও প্রচারণা খরচ মেটানো যায়। শিক্ষার্থী, ছোট ব্যবসা বা অফিসে এই সেবার প্রয়োজনীয়তা অনেক। দক্ষতা থাকলে এটি একটি নিয়মিত আয়ের উৎস হতে পারে এবং ভবিষ্যতে বড় প্রতিষ্ঠানে রূপ নিতে পারে।

নিষ্কর্ষ

মাত্র ১০ হাজার টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করা কঠিন মনে হলেও সঠিক পরিকল্পনা, ধৈর্য এবং প্রচেষ্টার মাধ্যমে সম্ভব। এই ২৫টি ব্যবসার আইডিয়ার যেকোনো একটি বেছে নিয়ে উদ্যোগ নিলে ধীরে ধীরে বড় সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

Md Sagor Hossen

Md Sagor Hossen

Sagor Hossen is the visionary behind The Sphere Chronicles! With a strong background in editorial leadership and content strategy, he launched this platform to illuminate stories that matter. His career spans several key roles in the publishing industry, blending creativity with business acumen.

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button